চার্ম ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান। সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধন নং ঢ-০৯০২৭০ (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। আমরা গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিলে তিনটি কার্যক্ষেত্রে কাজ করি। এই লেখায় সেই তিনটি কাজ ও তার পেছনের কারণ সহজ ভাষায় বলা হলো।

আমাদের আইনগত পরিচয়

চার্ম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪(৩) ধারার অধীনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক নিবন্ধিত। নিবন্ধনকারী কার্যালয় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা। আমাদের নিবন্ধিত কার্যালয়: বাড়ী নং-২৭/এ, রোড নং-৩২, গুলশান, ঢাকা। সংগঠন পরিচালনার জন্য লিখিত গঠনতন্ত্র, আর্থিক ও ক্রয় ম্যানুয়াল, শিশু সুরক্ষা নীতি এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।

কার্যক্ষেত্র ১: শিশুর শিক্ষা ও তরুণদের দক্ষতা

সমস্যাটি পরিচিত। গ্রামের অনেক শিশু, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশু, পড়া ও গণিতে পিছিয়ে পড়ে। কেউ কেউ প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকে ওঠার সময় ঝরে পড়ে, কেউ শিশুশ্রমে যুক্ত হয়। আর অনেক তরুণ-তরুণী শিক্ষাজীবন শেষ করেন এমন কোনো দক্ষতা ছাড়াই, যা নিয়োগকর্তারা খুঁজছেন।

এর জন্য আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল-পরবর্তী শিখন সহায়তা কেন্দ্র, ঝরে পড়া শিশুদের পুনঃভর্তি অভিযান ও শিক্ষা উপকরণ সহায়তা, কন্যাশিশুর শিক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য ডিজিটাল সাক্ষরতা, এবং ১৫-২৪ বছর বয়সীদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ — যেমন দর্জি কাজ, মোবাইল সার্ভিসিং, বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রাথমিক ধারণা। প্রশিক্ষণেই শেষ নয় — চাকরির সংযোগ, শিক্ষানবিশি ও ছোট ব্যবসা শুরুর সহায়তাও এর অংশ।

আমরা যা অর্জন করতে চাই: শিখনের মান বাড়া, ঝরে পড়ার হার কমা, মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করা কন্যাশিশুর সংখ্যা বাড়ানো এবং তরুণদের শোভন কাজ বা আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করা।

কার্যক্ষেত্র ২: জলবায়ু ও পরিবেশ

গ্রামের পরিবারগুলো বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি। বৃক্ষাচ্ছাদন কমছে, প্লাস্টিক দূষণ বাড়ছে এবং কৃষকেরা ফসল ও আয় হারাচ্ছেন।

এই কার্যক্ষেত্রে আমাদের কাজ: জনগোষ্ঠী ও বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ ও নার্সারি, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রশিক্ষণ, নিরাপদ খাবার পানি ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্ক বার্তা, ঘরের ধোঁয়া ও জ্বালানি খরচ কমাতে সৌরবাতি ও উন্নত চুলা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যালয়ে ইকো-ক্লাব, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিকল্প জীবিকা।

আমরা যা অর্জন করতে চাই: রোপিত গাছের টিকে থাকার হার বাড়ানো, জলবায়ু-সহনশীল চর্চা অনুসরণকারী পরিবারের সংখ্যা বাড়ানো, দুর্যোগ প্রস্তুতির উন্নতি এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো।

কার্যক্ষেত্র ৩: স্বাস্থ্যসেবা ও গ্রামীণ উন্নয়ন

অনেক গ্রাম মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে দূরে। মা, নবজাতক, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সেবা পেতে নানা বাধার সম্মুখীন হন। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, অপুষ্টি ও অসংক্রামক রোগ ক্রমশ বাড়ছে, আর দরিদ্র পরিবারগুলোর স্থিতিশীল আয় নেই।

এখানে আমাদের কাজ: বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প ও চক্ষু-দন্ত পরীক্ষা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা, পুষ্টি শিক্ষা ও মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা, শৌচাগার ও হাত ধোয়ার সুবিধাসহ WASH কার্যক্রম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ শনাক্তকরণ, কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, নারীদের সঞ্চয় দল ও আয়বর্ধক কার্যক্রম, এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির সহায়তা।

তিনটি কাজ একসঙ্গে কেন

কারণ বাস্তবে সমস্যাগুলো আলাদা নয়। একটি সুস্থ ও জলবায়ু-সহনশীল পরিবার শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে পারে। বন্যায় ফসল হারানো পরিবারের শিশুটিই সবার আগে পড়া ছাড়ে। তাই আমরা শিক্ষা, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকে একসঙ্গে দেখি।

এই তিনটি কার্যক্ষেত্রের জন্য আমাদের তিনটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি আছে — আলো শিক্ষা, সবুজ গ্রাম এবং সুস্থ পরিবার — প্রতিটির মেয়াদ ২৪ মাস। এগুলো এখনো অর্থায়নের অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাব, সম্পন্ন কাজ নয়; আমরা তা স্পষ্ট করেই বলছি। প্রতিটি প্রস্তাবের লক্ষ্যমাত্রা ও বাজেট আমাদের ইংরেজি লেখাটিতে বিস্তারিত দেওয়া আছে।

যে মূল্যবোধগুলো আমরা মেনে চলি

সততা: আমরা আমাদের কথায়, হিসাবে ও প্রতিবেদনে সৎ থাকি। শিশুই সবার আগে: যেকোনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শিশুর নিরাপত্তা আগে। জবাবদিহি: আমরা জনগোষ্ঠী, দাতা ও সরকারের কাছে জবাব দিই এবং কাজ প্রকাশ করি। অন্তর্ভুক্তি: সবার আগে দরিদ্রতম মানুষ, কন্যাশিশু ও নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাই। জনগোষ্ঠীর মালিকানা: পরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণে জনগোষ্ঠী অংশ নেয়, যাতে প্রকল্প শেষ হলেও ফল টেকে। প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং শিখন — ভুল থেকে শিখে আমরা কাজ শোধরাই।

আমরা কীভাবে কাজ করি

•    জনগোষ্ঠী-নেতৃত্বাধীন: গ্রাম কমিটি, অভিভাবক, তরুণ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রতিটি পর্যায়ে অংশ নেন।

•    অংশীদারিত্বভিত্তিক: ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা কার্যালয়, বিদ্যালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিকের সঙ্গে মিলে কাজ করি।

•    প্রমাণভিত্তিক: প্রতিটি প্রকল্পে বেসলাইন, সূচক ও চূড়ান্ত মূল্যায়ন থাকে।

•    কম পরিচালন ব্যয়: প্রশাসনিক খরচ সীমিত রাখি, জবাবদিহি শক্ত রাখি।

বর্তমানে আমাদের অনুমোদিত কর্ম এলাকা ঢাকা জেলা। অন্য জেলায় কাজ শুরু করার আগে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে কর্ম এলাকা সম্প্রসারণের অনুমোদন নিতে হবে। আমাদের কাজে যুক্ত হতে বা জানতে চাইলে যোগাযোগ করুন: +880 1716-237917 & info.sunriseruby@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *